লিনাক্স কি ? জেনে নিন বিস্তারিত

What is Linux – লিনাক্স   কি ?

wpdokan-Linux-karnel

আপনাদের যাদের পার্সনাল কম্পিউটার (পিসি) বা ল্যাপটপ আছে বা আপনারা যারা ইন্টারনেট দুনিয়ার সাথে সংযুক্ত আছেন তারা হয়তোবা একবার হলে লিনাক্স এর কথা সুনেছেন বা দেখেছেন ।অনেকে মনে করে যে লিনাক্স একটি অপারেটিং সিস্টেম,  তাদের ধারনা আসলে ভুল ।  লিনাক্স কোনো অপারেটিং সিস্টেম নয়, বরং  লিনাক্স হলো একটি কার্নেল।সাধারন ভাবে বলতে গেলে কার্নেল হলো এমন একটি প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম এর সমস্টি  যেটি মুলত  আপনার ডিভাইসের হার্ডওয়ার এর সাথে  সফটয়্যারের সংযোগ স্থাপন করে থাকে।
 আপনার কোন সফটয়্যারের যদি কোন হার্ডওয়্যার ব্যাবহারের যদি প্রয়োজন হয় তখন সফটওয়্যারটি কার্নেল এর কাছে অনুরোধ পাঠায় তখন কার্নেল সফটওয়্যারের প্রয়োজন অনুসারে হার্ডওয়্যার ব্যাবহারের অনুমতি প্রধান করে। আপনার কম্পিউটার চালু করার সময় যে বুট মেনু বা এনিমেশন দেখা যায়  এবং ধীরে ধীরে আপনার এপ্লিকেশন গুলো  রান হতে শুরু করে তা একমাত্র কার্নেল এর মাধ্যমে হতে পারে।  কার্নেল এর উপর   জামা কাপড় মানে ইউজার ইন্টারফেস,  ড্রাইভার , সফটওয়ার , ইউটিলিটি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয় ।
উদাহরণ স্বরূপ  windows xp এর কথা বলা যায় এর  কার্নেল হলো windows NT। এই একই  কার্নেল উপর ভিত্তি  করে  Windows 7 8 10 ইত্যাদি ডেভেলপ করা হয়েছে

লিনাক্স কার্নেল এসেছে unix থেকে। 90 এর দশকের এর আগে ইউনিক্স  ব্যাবহার  হতো কিন্তু তা অত্যন্ত ব্যায়বহুল এবং ওপেন সোর্স  অপারেটিং সিস্টেম না  হওয়ায় সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে ছিল। তবে ইউনিভার্সিটি  গুলোতে শেখানোর জন্যে ইউনিক্স এর ছোট  ভার্সন minix ইউজ হতো। 1991 সালে লিনাস টারভাল্ডস minix থেকে লিনাক্স ডেভেলপ করেন যা মূলত UNIX এরই কপি। লিনাক্স এবং লিনাক্স এর কোড জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে সাধারন মানুষের ব্যাবহার উপোযুগী করে দেন।

লিনাক্স সম্পুন  ফ্রি এবং ওপেন সোর্স হওয়ায় যে কেউ লিনাক্স এর কোড ইচ্ছা মত মডিফাই করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে পারে অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করে নিতে পারে। তাই বিশ্বের সকল সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে বেসির ভাগ সার্ভার এমন কী  স্পেশশীপ পর্যন্ত লিনাক্স কর্নেল বা লিনাক্স বেইজড অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহার করে থাকে । আমরা আপনারা যারা  এন্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যাবহার করেন তারা জানেন কি না জানি না এন্ড্রোয়েড এর যে অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহার করা হয় তা হলো  লিনাক্স কর্নেল এর উপর নির্ভর করে বানানো ।
যেহেতু লিনাক্স নিজেই ইউনিক্স বেইজড তাই লিনাক্স এবং উইনিক্স বেইজড অপারেটিং সিস্টেম গুলাকে একত্রে সাধারনত  “ইউনিক্স লাইক অপারেটিং সিস্টেম” বলা হয়। এপল এর ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম আইফোন এর আই অপারেটিং সিস্টেম ও ইউনিক্স এর মতো  অপারেটিং সিস্টেম ।
 মূল লিনাক্স এর  অপারেটিং সিস্টেম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ubntu, debian ইত্যাদি। এগুলো মুলত একই অপারেটিং সিস্টেম কিন্তু  অন্য রকমের মানে এটি প্রয়োজন অনুসারে ডিজাইন করা হয়েছে। এই ভিন্ন ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম কে ডিস্ট্রিবিউশন বা ডিস্ট্রো বলা হয়।

যদি লিনাক্স এ আসতে চান তাহলে ubuntu, linux mint, elementary os, manjaro linux দিয়ে শুরু করতে পারেন।
 এরপর অভিজ্ঞ হলে debian, arch linux, centos , redhat linux এ যেতে পারেন। পিসি পুরান হলে  ubuntu , xubuntu ইউজ করতে পারেন। উইন্ডোস এর মত লিনাক্স চাইলে zorin os , linux mint ইউজ করতে পারেন। লিনাক্স সাধারনত খুব দ্রুত ও এক সাথে অনেক কাজ করা যা  খুবই স্টেবল হয়ে থাকে যার কারণে ওয়েব সার্ভার এ ব্যাপক ভাবে ইউজ করা হয়ে থাকে ।  রেগুলার জেনারেল ইউজ এর জন্যে উবুন্টু মিনট যেকোনো একটি দিয়ে শুরু করতে পারেন  ।